Wednesday, May 27, 2026

বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, হাসপাতালে বোম ডিসপোজাল ইউনিট

বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, হাসপাতালে বোম ডিসপোজাল ইউনিট

        আদ-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যু 

বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা, হাসপাতালে বোম ডিসপোজাল ইউনিট



রাজধানীর মগবাজারে আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে কি না সে বিষয়ে তদন্তে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোম ডিসপোজাল ইউনিট।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে ডিএমপির বোম ডিসপোজাল ইউনিটের একটি দল আদ-দ্বীন হাসপাতালে আসে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিটের এক সদস্য বলেন, ‘আমাদের সিনিয়র স্যাররা এখানে ডেকেছেন। আমরা উন্নত প্রযুক্তির কিছু ডিভাইস নিয়ে এসেছি। যে কক্ষে নবজাতকরা মারা গেছে সেই কক্ষে এসব ডিভাইস দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবো। এখানে কোনো বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়েছে কি না, আর ছড়িয়ে থাকলে কোন গ্যাস এবং কী পরিমাণে ছড়িয়েছে, এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শেষে বলা যাবে।’

এর আগে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ রুম থেকে নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেন।

বুধবার সকালে হাসপাতালটিতে একসঙ্গে ছয় শিশুর মৃত্যু ঘটে। তারা সবাই পোস্ট ডেলিভারি ওয়ার্ডে ছিল। কী কারণে এই ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্টভাবে কোনোকিছু নিশ্চিত করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। যদিও শিশুদের স্বজনরা অভিযোগ করছেন, নবজাতক ওয়ার্ডে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) যন্ত্রের গ্যাস লিকেজ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে।

দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের মহাপরিচালক (হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিং) অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, সকাল ৬টার দিকে হঠাৎ করে বাচ্চার মায়েরা কর্তব্যরত নার্সদের বলছিলেন- বাচ্চাকে অসুস্থ মনে হচ্ছে। তখন ছয়জন বাচ্চাকেই এনআইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে সেখানে নেওয়ার সময় দুজন বাচ্চা মারা যায়। অন্য চারজন বাচ্চার অবস্থা খুবই গুরুতর ছিল। তাদের ভেনটিলেটর সাপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। এরপর তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু বাঁচানো যায়নি।

Sunday, May 24, 2026

অনলাইন-অফলাইনে সক্রিয় জাল নোটচক্রের মৌসুমি কারবারিরা

অনলাইন-অফলাইনে সক্রিয় জাল নোটচক্রের মৌসুমি কারবারিরা

 


ঈদ ঘিরে অনলাইন-অফলাইনে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জাল নোটচক্রের মৌসুমি কারবারিরা। সারা বছর তৈরি করা জাল নোটের প্রায় ৭০ শতাংশই এই দুই ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে ছড়ানো হয়ে থাকে।ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকসহ অনলাইনের বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট দিয়ে তারা জালনোট কেনাবেচা করছেন। বর্তমানে এক লাখ টাকার জাল নোট বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায়। কোনো কোনো গ্রুপে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা দাম চাওয়া হচ্ছে।


গত ১৩ মে রাতে মতিঝিলের কমলাপুর বাজার রোডের একটি সাইবার ক্যাফে থেকে জালনোট তৈরির সরঞ্জামসহ দুজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৩। ১৪ মে উত্তরা ও টঙ্গী থেকে প্রায় ৩৪ লাখ টাকার জাল নোটসহ তিনজনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। 

গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় গোপনে চালু রয়েছে জাল নোট তৈরির কারখানা। সারা বছর উৎপাদন করা নোটগুলো পশুরহাটসহ মার্কেটগুলোতে ছড়িয়ে দিতে মাঠে সক্রিয় থাকে বহু চক্র।

চলতি মাসের শুরু থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পরে সর্বস্ব খোয়ানোর বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। ঈদ সামনে রেখে গরুর হাট, বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও গণপরিবহণে এই চক্রের তৎপরতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। 

আইনসংশ্লিষ্ট ও অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমি অপরাধীরা মূলত সীমান্তবর্তী অঞ্চল ও ঢাকার আশপাশের জেলা থেকে ঈদ বা কোনো উৎসবের আগে রাজধানীতে আসে। সারা বছর গ্রামে ছোটখাটো কাজ করলেও এই সময়ে বাস টার্মিনাল, লঞ্চঘাট ও গণপরিবহণের যাত্রী সেজে সাধারণ নাগরিকত্বের সর্বস্বান্ত করে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, মৌসুমি অপরাধ রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়াতে হবে। এছাড়া বাড়িফেরা যাত্রীসহ রাজধানীর নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে।


সদরঘাটে বাড়ছে যাত্রীর চাপ, কেবিন বুকিং-টিকিট কাটতে ভিড়

সদরঘাটে বাড়ছে যাত্রীর চাপ, কেবিন বুকিং-টিকিট কাটতে ভিড়

 


আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীকাল সোমবার থেকে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় আজ রোববার শেষ কর্মদিবসে অনেকেই বাড়ির পথে রওয়ানা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রোববার (২৪ মে) সকাল থেকেই সদরঘাট এলাকায় যাত্রী ও স্বজনদের উপস্থিতি বাড়তে দেখা গেছে। কেউ আগেভাগে এসে লঞ্চের কেবিন ও সিট বুকিং করছেন, আবার কেউ ভিড় এড়াতে একদিন আগে থেকেই যাত্রার পরিকল্পনা করছেন।

বরিশালগামী যাত্রী মো. রাসেল হাওলাদার জাগো নিউজকে বলেন, আগামীকাল থেকে ভিড় অনেক বেড়ে যাবে মনে হচ্ছে। তাই আজই পরিবার নিয়ে চলে এসেছি। আগে থেকেই কেবিন বুকিং করে রাখলাম।

ভোলাগামী যাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, ছোট বাচ্চা নিয়ে ভিড়ে যাতায়াত করা কষ্টকর। তাই আজ অফিস থেকে একটু আগে বের হয়ে টিকিট নিশ্চিত করতে এসেছি।

jagonews24.com

এখন যাত্রীর চাপ কেমন তা নিয়ে কথা হয় মানামী লঞ্চের পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, এখনো যাত্রীর চাপ সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে আজ রাত থেকে এবং আগামীকাল সকাল থেকে চাপ অনেক বেড়ে যাবে বলে আমরা ধারণা করছি। সে অনুযায়ী লঞ্চের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও যাত্রীসেবার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি কেবিন ও ডেক পরিষ্কার রাখা, লাইফ জ্যাকেট প্রস্তুত রাখা এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার বিষয়ে আমাদের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। যাত্রীরা যেন স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে ঘাটজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতাও চোখে পড়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও ব্যাগেজ তল্লাশিতেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী।

বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদের মূল যাত্রীচাপ শুরু হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। ২৪ ঘণ্টা সমন্বিতভাবে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।

এবার ঈদযাত্রায় নদীপথে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ যাত্রী চলাচল করতে পারেন। এ চাপ সামাল দিতে প্রায় ১৭৫টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিয়মিত সার্ভিসের পাশাপাশি অতিরিক্ত লঞ্চও চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সদরঘাটের পাশাপাশি বছিলা ও কাঞ্চন ব্রিজ এলাকা থেকেও বিশেষ সার্ভিস পরিচালনা করা হবে।

jagonews24.com

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আজ সন্ধ্যা থেকেই যাত্রীচাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এজন্য ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচল বন্ধ, লাইফ জ্যাকেট ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরীক্ষা এবং পন্টুন এলাকায় বাড়তি মনিটরিং চালানো হচ্ছে।

এছাড়া, যাত্রীসেবায় ফ্রি কুলি, ট্রলি ও হুইলচেয়ার সুবিধাও রাখা হয়েছে। কুলিদের হয়রানি বন্ধে ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।


পটুয়াখালীগামী যাত্রী আব্দুল কাদের বলেন, প্রতিবছর শেষ মুহূর্তে খুব চাপ থাকে। এবার একদিন আগে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেন ঝামেলা কম হয়। সেবা অনেক বেড়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) লালবাগ বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সদরঘাটসহ বিভিন্ন যাতায়াতকেন্দ্রে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টিকিট কালোবাজারি, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি ও পকেটমারদের ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।

Saturday, May 23, 2026

টেকনাফে রোহিঙ্গা-টিটিপি সংযোগ: নতুন ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ বাংলাদেশের

টেকনাফে রোহিঙ্গা-টিটিপি সংযোগ: নতুন ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ বাংলাদেশের



কক্সবাজারের টেকনাফে পাকিস্তানভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মোহাম্মদ উল্যাহ (১৯) নামের এক রোহিঙ্গা তরুণ গ্রেফতারের ঘটনা বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নাকি বৃহত্তর ‘উগ্রবাদের’ তৎপরতার ইঙ্গিত—তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হওয়া এবং দিন দিন আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহায়তা কমে যাওয়ায় ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ ক্রমেই জটিল হচ্ছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, গ্রেফতার তরুণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে টিটিপির অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতো। গ্রুপের সদস্যরা ইংরেজি ও আরবিতে লেখালেখি করতো। গ্রেফতারের কিছু সময় পর থেকে তার মোবাইল ফোনটি ওপেন হচ্ছে না। প্রযুক্তি বিষয়ে অনেক কিছু জানা আছে তার।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প বাংলাদেশের জন্য বিষফোঁড়া। সেখানে দিনের বেলায় হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটে থাকে। তবে জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। এ বিষয়টি অন্য রোহিঙ্গা সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।

গ্রেফতার ও তদন্ত

গত ৪ মে রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফের ২৪ নম্বর জাদিমুড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ উল্যাহকে আটক করা হয়। মোহাম্মদ উল্যাহ আশ্রয়শিবিরের এফ-ব্লকের বাসিন্দা আবদুল করিমের ছেলে। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে টিটিপি-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়ার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রাথমিক অনুসন্ধানে ওই তরুণের টিটিপি-সমর্থিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে তার সক্রিয় সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে, যেখানে জঙ্গি সংগঠনটির সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। গ্রেফতার তরুণ বর্তমানে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) হেফাজতে রিমান্ডে রয়েছেন। রিমান্ডে সে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে।

টিটিপি কারা?

আফগানিস্তানের মূল তালেবান গোষ্ঠী ১৯৯৪ সালে দেশটিতে শাসন শুরু করে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর মার্কিন আগ্রাসনে তাদের পতন ঘটে। ক্ষমতা হারানোর পর তালেবান যোদ্ধারা পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় পালিয়ে যান। সেখানে ২০০৭ সালে বেশ কিছু জঙ্গিগোষ্ঠী একটি জোট গঠন করে। তারা নিজেদের নাম দেয় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। এটিই মূলত পাকিস্তান তালেবান হিসেবে পরিচিত।

jagonews24রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে দিন দিন খাদ্য সহায়তা কমে আসছে/সংগৃহীত ছবি

টিটিপি পাকিস্তানে ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তান সরকারকে উৎখাত করতে চায়। এ উদ্দেশ্য হাসিলে টিটিপি সরাসরি সেনাবাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে এবং রাজনীতিবিদদের হত্যার মাধ্যমে পাকিস্তানকে অস্থিতিশীল করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়টি খুবই উদ্বেগের। এ বিষয়টি অন্য রোহিঙ্গা সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া।—বলছেন বিশ্লেষকরা

টিটিপি ও আফগানিস্তানের তালেবান আলাদা সংগঠন হলেও তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ মিত্রতা রয়েছে। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফিরেছে আফগান তালেবান। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, সীমান্ত পেরিয়ে তাদের দেশে হামলা চালানো সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে আফগানিস্তান। তবে আফগান তালেবান শুরু থেকেই পাকিস্তানের এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

কেন বাড়ছে উদ্বেগ

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৩ থেকে ১৪ লাখ। উখিয়া ও টেকনাফের বিস্তীর্ণ এলাকায় গড়ে ওঠা শিবিরগুলো দীর্ঘদিন ধরেই অপরাধ, অস্ত্র, মাদক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।


স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাম্প এলাকায় অপহরণ, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও গোলাগুলির ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। বিভিন্ন রোহিঙ্গা সশস্ত্র গ্রুপের সংঘর্ষে বহু হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

টিটিপিতে যোগ দিয়ে পাকিস্তানে নিহত বাংলাদেশি তরুণ

তেহরিক-ই-তালেবানে (টিটিপি) যোগ দিয়ে সেনা অভিযানে নিহত বাংলাদেশি তরুণ ফয়সাল হোসেনের (২২) পরিবার জানতো তিনি দুবাই প্রবাসী। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে তার মৃত্যু হয়। ফয়সাল মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে ছোট দুধখালী এলাকার আবদুল আউয়াল মোড়লের ছেলে। গত বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কারাক জেলায় পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর এক অভিযানে ১৭ টিটিপি সদস্য নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশি তরুণ ফয়সাল হোসেনও ছিলেন।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে আগের তুলনায় নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। অপহরণ, মাদক ও মানবপাচার এবং সশস্ত্র তৎপরতার কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন।—বলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা  

ফয়সালের মৃত্যুর সংবাদটি গুরুত্ব দিয়ে প্রথম প্রকাশ করে দ্য ডিসেন্ট নামে একটি অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম। পরে বিষয়টি আলোচনায় আসে। দ্য ডিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৭ এপ্রিল উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বোমা হামলায় টিটিপির ৫৪ জন সদস্যের সঙ্গে আহমেদ জোবায়ের নামের এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছিলেন।

বিজ্ঞাপন

jagonews24পাকিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশি তরুণ ফয়সাল হোসেন/সংগৃহীত ছবি

গত দেড় বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে অন্তত চারজন বাংলাদেশি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনার পর পাকিস্তানের টিটিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গত বছরের জুলাইয়ে বাংলাদেশে অন্তত দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সীমান্ত ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা

টেকনাফ বাংলাদেশের সবচেয়ে স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোর একটি। একদিকে মিয়ানমারের অস্থিতিশীল রাখাইন রাজ্য, অন্যদিকে সমুদ্রপথ ও পাহাড়ি রুট—সব মিলিয়ে এটি দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের ঝুঁকিতে রয়েছে। মিয়ানমারের চলমান সংঘাত, অস্ত্রের অবাধ চলাচল এবং সীমান্তবর্তী অপরাধচক্র পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

যদি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টিটিপি-ঘনিষ্ঠ কোনো নেটওয়ার্ক গড়ে ওঠে, তবে তা শুধু ক্যাম্প নয়, পুরো সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক

টেকনাফ ও উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে আগের তুলনায় নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। অপহরণ, মাদক ও মানবপাচার এবং সশস্ত্র তৎপরতার কারণে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে রয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ একজন রোহিঙ্গা নেতা জাগো নিউজকে বলেন, ‘সাধারণ তরুণ ও যুবকদের বিভিন্ন প্রলোভনে টার্গেট করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রলোভনে যুবক ও তরুণদের সন্ত্রাসী দলে ভেড়ানোর চেষ্টা চলছে। কেউ দলে না গেলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বেকার তরুণ-যুবকরা প্রলোভনে পড়ে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।’

যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার সঙ্গে অন্য রোহিঙ্গাদের উগ্রবাদী কাজে যোগাযোগ থাকতে পারে। তাদের নতুন পলিকল্পনা থাকতে পারে, যা আমাদের দেশের জন্য নিরাপত্তা হুমকি।—ড. ইমতিয়াজ আহমেদ

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অনেকে মনে করেন, আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়ায় ক্যাম্পের ভেতরে হতাশা ও অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারে।

গ্রেফতার তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এটিইউ

মোহাম্মদ উল্যাহর বিরুদ্ধে হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলাটি তদন্ত করছেন টেকনাফ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শুভ মিত্র তালুকদার। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘পাঁচদিনের রিমান্ড শুরু হয়েছে। অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) কর্মকর্তারা আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। মামলাটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

আরও পড়ুন
রোহিঙ্গা ইস্যু জঙ্গি ঝুঁকি বাড়াবে: টিআইবি
টাকা দিয়ে রোহিঙ্গাদের দলে ভেড়ানোর চেষ্টায় ‘হরকাতুল জিহাদ’
মিয়ানমারের ভারী অস্ত্র রোহিঙ্গাদের হাতে, ক্যাম্পে আতঙ্ক

তিনি বলেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে গ্রেফতার রোহিঙ্গা তরুণ টিটিপির অন্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতো। গ্রুপের সদস্যরা ইংরেজি ও আরবিতে লেখালেখি করতো। গ্রুপের সদস্যদের ১৬ প্যাজের চ্যাট হিস্ট্রোরি প্রিন্ট করে এজাহারের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। তবে গ্রেফতারের কিছু সময় পর থেকে ওই যুবকের মোবাইল ফোনটি ওপেন হচ্ছে না। মোবাইল ফোনটি শিগগির ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো হবে।’

jagonews24পাকিস্তানের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে টিটিপির সশস্ত্র সদস্যদের মহড়া/সংগৃহীত ছবি

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপসহ সিক্রেট অ্যাপসে তারা যোগাযোগ করতো। গ্রুপের এডমিন সবাই বাংলাদেশের বাইরে। সন্দেহ করা হচ্ছে আরও রোহিঙ্গা এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তদন্তে উঠে আসবে সবকিছু।’

গ্রেফতার তরুণ খুবই মেধাবী

রোহিঙ্গা ক্যাম্পকেন্দ্রিক গোয়েন্দা সংস্থার একজন কর্মকর্তা জানান, গ্রেফতার তরুণ মোহাম্মদ উল্যাহ দৈনিক আট ঘণ্টার বেশি পড়াশোনা করতো। সম্প্রতি সে তার দেশের (মিয়ানমার) একটি ইংলিশ কোর্স অনলাইনে সম্পন্ন করেছে। সে খুবই মেধাবী। ধারণা করা হচ্ছে, সে আরও কয়েকজনকে টিটিপির সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে।’

নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে

কক্সবাজার ১৬ এপিবিএনের অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘ক্যাম্পগুলোতে গোয়েন্দা তৎপরতা ও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। রোবাস্ট টহলের পাশাপাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো তৎপরতা মোকাবিলায় পুলিশ তৎপর।’

দেশের আর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা আলাদা জগৎ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে জঙ্গি তৎপরতা বা সদস্য সংগ্রহ সহজ। কারণ, সেখানে আইনশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার জায়গাগুলো খুব সমন্বিতভাবে হয় না। ক্যাম্পের ভেতরে সার্বক্ষণিক অফিসার লেভেলের কর্মকর্তারা থাকেন না। আমাদের দেশের আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে ক্যাম্পের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মেলানো যাবে না। ওটা (রোহিঙ্গা ক্যাম্প) একটা আলাদা জগৎ।’

সাধারণ তরুণ ও যুবকদের বিভিন্ন প্রলোভনে টার্গেট করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রলোভনে যুবক ও তরুণদের সন্ত্রাসী দলে ভেড়ানোর চেষ্টা চলছে। কেউ দলে না গেলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বেকার তরুণ-যুবকরা প্রলোভনে পড়ে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।—বলছেন শীর্ষ একজন রোহিঙ্গা নেতা

তিনি বলেন, ‘যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে তার সঙ্গে অন্য রোহিঙ্গাদের উগ্রবাদী কাজে যোগাযোগ থাকতে পারে। তাদের নতুন পলিকল্পনা থাকতে পারে, যা আমাদের দেশের জন্য নিরাপত্তা হুমকি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী খুব দ্রুত তাদের রুখতে সক্ষম হবে আশা করা যায়।’

‘দেশের ভেতরে হোক কিংবা আঞ্চলিক কোনো জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে এই ছেলের (মোহাম্মদ উল্যাহর) বা এদের যোগাযোগটা থাকে। এ ব্যাপারে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো একটু তৎপর হতে পারে, তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। প্রয়োজন হলে মিয়ানমারের সঙ্গে (যোগাযোগ) করতে পারা যাবে কি না জানিনা, তবে আঞ্চলিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করতে পারে। কারণ, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার মধ্যে তাদের একটা তৎপরতা থাকতে পারে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ। আমরা সাহায্য চাইতে পারি অন্য দেশগুলো কাছে’—এ প্রসঙ্গে যোগ করেন ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।

Friday, May 22, 2026

কিউবার জনগণকে সাহায্য করতেই মার্কিন রণতরী মোতায়েন: ট্রাম্প

কিউবার জনগণকে সাহায্য করতেই মার্কিন রণতরী মোতায়েন: ট্রাম্প

 

কিউবার জনগণকে সহায়তা করাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। সম্প্রতি কিউবার কাছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনকে হুমকি হিসেবে দেখার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, কিউবা একটি ‘ব্যর্থ দেশ’ যেখানে বিদ্যুৎ, অর্থ ও খাদ্যের ঘাটতি রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহায়তা করতে চায়।

ট্রাম্প বলেন, ‘তার প্রশাসনের কিউবা নীতি মূলত মানবিক দিক এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত কিউবান আমেরিকানদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেব (বিশেষ করে ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বসবাসরতদের)।’

তিনি বলেন, ‘কিউবান আমেরিকানরা অনেকেই ভবিষ্যতে দেশে ফিরে গিয়ে পুনর্গঠন ও বিনিয়োগ করতে চান। তাদের নিজ দেশের উন্নয়নে সাহায্য করার আকাঙ্ক্ষার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।’

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ‘কিউবা ১০০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন মানবিক সহায়তা গ্রহণ করেছে। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তারা বলছে তারা এটি গ্রহণ করেছে। আমরা দেখব, তারা সত্যিই গ্রহণ করেছে কি না।’

রুবিও আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো মানবিক সহায়তা দিতে চায় না যা কিউবার সামরিক প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যায় এবং পরে তা বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করা হয়।’

এর আগে কিউবা জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সহায়তা গ্রহণ করা হবে কি না তা তারা বিবেচনা করছে। দেশটি বর্তমানে তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে উঠে এসেছে।

কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ কানেল বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই ঘোষিত পরিমাণ সহায়তা আন্তর্জাতিক মানবিক মানদণ্ড মেনে প্রদান করে, তাহলে তারা তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত।’

ট্রাম্প সাহায্যে বিষয়ে বলেন, তার প্রশাসন কিউবান আমেরিকানদের জন্য এমন সুযোগ তৈরি করতে চায় যাতে তারা ইচ্ছা করলে দেশে ফিরে গিয়ে সাহায্য ও বিনিয়োগ করতে পারেন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারীর কী শাস্তি হওয়া উচিত?

রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারীর কী শাস্তি হওয়া উচিত?


 ‌‘রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারীর কী শাস্তি হওয়া উচিত?’ তা জানতে চেয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এ ব্যাপারে ২২ মে দুপুর ২টা ৫৯ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করেছেন তিনি।

আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‌‘রামিসার ধর্ষক ও হত্যাকারীর কী শাস্তি হওয়া উচিত? তার জন্য মানুষের দুনিয়ায় কোনো শাস্তিই যথেষ্ট নয়। তবে শাস্তি অন্তত এমন হওয়া উচিত, যাতে অপরাধীরা ভয় পায় এবং মানুষের মনে কিছুটা শান্তি আসে। শিশু ধর্ষণ এতটাই এখন বেড়েছে যে, দীর্ঘ বিচার শেষে নিভৃতে ফাঁসি দিলে সেই উদ্দেশ্য পূরণ হবে না। শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকারীর শাস্তি হওয়া উচিত প্রকাশ্যে একশত চাবুক; এরপর অপরাধী বেঁচে থাকলে ফাঁসি।

তবে এর চেয়েও বেশি প্রয়োজন বিচারকে দ্রুততর করা। আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যার পর দ্রুত বিচারের জন্য আইন মন্ত্রণালয় নিজে উদ্যোগী হয়ে আইন সংশোধন করেছিল। শিশু ধর্ষণ বিচারের জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনালের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আছিয়া ধর্ষণের বিচার ৬ কার্যদিবসে সমাপ্ত হয়েছিল। তারপরও সুপ্রীম কোর্টে আপিল নিস্পত্তি হয়নি বলে সেই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ফাঁসি কার্যকর হয়নি। আপিল নিস্পত্তি দ্রুততর করার এখতিয়ার আইন মন্ত্রণালয়ের ছিল না। এটা করার উদ্যোগ একমাত্র প্রধান বিচারপতি নিতে পারেন।

গতকাল প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, রামিসা হত্যার বিচারও অল্পদিনের মধ্যে হবে আশা করি। কিন্তু সেটি তো শুধু বিচারিক আদালতে। এরপর হাইকোর্টে আপিল হবে, তারপর আপিলেট ডিভিশনে আপিল! লেগে যাবে অসহনীয় দীর্ঘসময়! এ ধরনের মামলা সুপ্রীম কোর্টে (হাইকোর্ট ও আপিলেট ডিভিশন) নিষ্পত্তি হতে বহু বছর লেগে যায়।

তবে এর সমাধানও আছে। আছিয়া ও রামিসাদের মতো মামলায় অপরাধী নরপশুদের দ্রুত ন্যায়বিচার দেওয়ার ক্ষমতা প্রধান বিচারপতির হাতে রয়েছে। প্রধান বিচারপতি চাইলে হাইকোর্টের এক বা দুটি নির্দিষ্ট বেঞ্চকে শুধু শিশু ধর্ষণ মামলার আপিল শুনানির দায়িত্ব দিতে পারেন। সেখান থেকে আপিলেট ডিভিশনে গেলে প্রয়োজন হলে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে (এমনকি শনিবারেও) দ্রুত শুনানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বিচারিক আদালতে বিচার শেষ হওয়ার পর এই প্রক্রিয়ায় কিছুদিনের মধ্যেই আপিল শুনানি সম্পন্ন করা সম্ভব।

মানুষ আর অপেক্ষা করতে পারছে না। শিশু ধর্ষকদের দ্রুত বিচার ও রায় নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে।’
স্বস্তির ঈদযাত্রার জন্য সঙ্গে যা রাখবেন

স্বস্তির ঈদযাত্রার জন্য সঙ্গে যা রাখবেন




 ঈদের ছুটি মানেই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা। তবে এই আনন্দের যাত্রায় অনেক সময় বাদ সাধতে পারে অতিরিক্ত ভিড়, তীব্র গরম আর দীর্ঘ যানজট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসে, ট্রেনে বা লঞ্চে আটকে থাকা মোটেও আরামদায়ক নয়।

তাই ঈদ যাত্রা যেন ঝক্কিমুক্ত এবং স্বস্তিদায়ক হয়, সেজন্য ট্রাভেল ব্যাগে কিছু জরুরি জিনিস রাখা জরুরি। সঠিক প্রস্তুতি আপনার ভ্রমণের ক্লান্তি ও মানসিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। চলুন তাহলে জেনে নেই যাত্রাপথকে আরামদায়ক করতে আপনার ব্যাগে কি কি রাখবেন সে সম্পর্কে

প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও নগদ টাকা

ট্রেনের বা বাসের টিকিট (ডিজিটাল বা প্রিন্ট কপি) এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সবার আগে ব্যাগে নিন। যাত্রাপথে সব জায়গায় কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং কাজ নাও করতে পারে, তাই পর্যাপ্ত খুচরা ও নগদ টাকা সাথে রাখুন।

পানি ও শুকনো খাবার

গরমে ডিহাইড্রেশন এড়াতে পানির বিকল্প নেই। সঙ্গে অবশ্যই বিশুদ্ধ পানির বোতল রাখবেন। এছাড়া যানজটের কথা মাথায় রেখে বিস্কুট, মুড়ি, বাদাম বা খেজুরের মতো হালকা শুকনো খাবার সাথে ।

ফার্স্ট এইড ও জরুরি ওষুধ

অ্যাসিডিটি, বমিভাব, মোশন সিকনেস (গাড়িতে মাথা ঘোরানো) বা মাথা ব্যথার ওষুধ সাথে নেওয়া জরুরি। যারা নিয়মিত কোনো ওষুধ খান, তারা সেটি পর্যাপ্ত পরিমাণে নিন। ওআরএস (ওরস্যালাইন) ও গ্লুকোজ গরমে তাৎক্ষণিক ক্লান্তি দূর করতে দারুণ কাজ করবে।

পাওয়ার ব্যাংক

দীর্ঘ যাত্রায় মোবাইল ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া একটি বড় বিপত্তি। পরিবার ও প্রিয়জনের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখতে একটি ফুল-চার্জড পাওয়ার ব্যাংক সাথে রাখুন।

রোদ-বৃষ্টির প্রস্তুতি ও হাইজিন

ভ্রমণের জন্য বেছে নিন হালকা রঙের আরামদায়ক সুতি পোশাক। রোদ ও হুটহাট বৃষ্টি থেকে বাঁচতে ছোট একটি ফোল্ডিং ছাতা বা ক্যাপ ব্যাগে রাখুন। এছাড়া হাত ও মুখ পরিষ্কার রাখতে ওয়েট টিস্যু, সাধারণ টিস্যু এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখা আবশ্যক।

ঈদ যাত্রা শুধুমাত্র একটি সাধারণ ভ্রমণ নয়, এটি পরিবারের কাছে পৌঁছানোর এক আনন্দময় অনুভূতি। তাই তাড়াহুড়ো না করে একটু সময় নিয়ে গুছিয়ে নিন আপনার প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো। একটি সুপরিকল্পিত প্রস্তুতিই নিশ্চিত করতে পারে আপনার স্বস্তির ঈদ যাত্রা। আপনার সফর নিরাপদ ও আনন্দময় হোক।
গাবতলীতে ঘরমুখো মানুষের চাপ, টিকিট মিলছে কাউন্টারেই

গাবতলীতে ঘরমুখো মানুষের চাপ, টিকিট মিলছে কাউন্টারেই

 



ঈদুল আজহা সামনে রেখে টানা ছুটি শুরু হচ্ছে দুদিন বাদেই। তবে অনেকে যাত্রাপথের ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন। কর্মজীবীদের অনেকে নিজে কর্মস্থলে থাকলেও স্ত্রী-সন্তানদের আগেভাগে পাঠিয়ে দিচ্ছেন বাড়িতে। এ অবস্থায় ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে রাজধানীর ব্যস্ততম আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল গাবতলীতে।

শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে একের পর এক ছেড়ে যাচ্ছে দূরপাল্লার বাস। ঢাকা ছেড়ে যাওয়া কোনো পরিবহনে আসন ফাঁকা না থাকলেও দিনের পরবর্তী গাড়িগুলোর টিকিট মিলছে কাউন্টারেই। ফলে যাত্রীদের আনাগোনায় এখন সরগরম গাবতলী টার্মিনাল।

সকালে দূরপাল্লার বাস কাউন্টার কল্যাণপূর ও গাবতলী ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের তুলনায় যাত্রীদের উপস্থিতি অনেক বেশি। বিভিন্ন পরিবহনের কাউন্টারে টিকিট সংগ্রহে ব্যস্ত যাত্রীরা। কোথাও কোথাও কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন। সকাল থেকে গাবতলী ও কল্যাণপুর কাউন্টারে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্যস্ত সময় পার করছেন দূরপাল্লার পরিবহনের কাউন্টার মাস্টাররা। যাত্রী ডাকতে হাঁকডাকে সরগরম পুরো গাবতলী টার্মিনাল।

jagonews24

কল্যাণপুর দূরপাল্লার বাস কাউন্টার ঘুরে দেখা গেছে, কাউন্টারের ভেতরে ও সামনে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। কাউন্টারগুলোর সামনে দূরপাল্লার পরিবহন এসে দাড়াঁতেই নির্ধারিত গাড়িতে উঠতে ব্যস্ত হয়ে উঠছেন যাত্রীরা।

ইরান এক্সপ্রেসের কাউন্টার মাস্টার রনি বলেন, আজ সকাল থেকে মোটামুটি যাত্রী আছে। তবে নামাজের পর বোঝা যাবে। আজ ছুটির দিনতো, দেখা যায় সকালে যাত্রীর চাপ কিছুটা বাড়ে। কিন্তু নামাজের পর আর কোনো যাত্রী থাকে না। তবে অন্য দিনগুলোর তুলনায় আজ যাত্রী বেশি। যাত্রীদের অধিকাংশই ঈদের ছুটি কাটাতে যাচ্ছেন

হানিফ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার অনিক বলেন, সকাল থেকেই যাত্রীর চাপ। কিছুক্ষণ আগেও যাত্রী কাউন্টারের সামনে থেকে সরাতে পারছিলাম না। সকাল থেকে অন্তত আমাদেরই ২০টি গাড়ি ছেড়ে গেছে। কোনো গাড়িতে আসন ফাঁকা নেই। শুক্রবার হওয়ায় সকালে যাত্রীর এতো চাপ।

পূর্বাশা পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার রমজান বলেন, তুলনামূলক কিছুটা যাত্রীর চাপ আছে। সকাল ৯টা ১৫ পর্যন্ত আমাদের ৭টি গাড়ি ছেড়ে গেছে। কোনো গাড়িতে আসন ফাঁকা যায়নি। বিকেল ৩টা পর্যন্ত যে গাড়িগুলো আছে কোনোটিতেই আসন ফাঁকা নেই। তবে ৩টার পরের শিডিউলের গাড়িগুলোতে আসন ফাঁকা আছে।

গোল্ডেন লাইনের কাউন্টার মাস্টার মো. রনি বলেন, যাত্রীর চাপ খারাপ না। সকাল থেকে ১৯টি গাড়ি ছেড়ে গেছে। কোনো গাড়িতে আসন ফাঁকা ছিল না। সাধারণ দিনগুলোতে এই (৯টা ৩০ মিনিট) সময়ের মধ্যে ১০ থেকে ১১টি গাড়ি ছেড়ে যায়। কিন্তু আজ সকাল থেকে যাত্রীর চাপ থাকায় গাড়ি বেশি ছাড়তে হয়েছে।

পরবর্তী গাড়িতে আসন ফাঁকা আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব গাড়িতেই মোটামুটি কিছু কিছু আসন ফাঁকা। তবে আগামী ২৫, ২৬, ২৭ তারিখের কোনো গাড়িতে আসন ফাঁকা নেই।

jagonews24

পাবনা যাওয়ার উদ্দেশ্যে গাবতলী বাস টার্মিনালে এসেছেন রাহাত। পড়াশোনা করেন রাজধানীর একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। কথা হলে তিনি বলেন, সাধারণত এত আগে বাড়িতে ফেরা হয় না। ক্যাম্পাস ছুটি হয়ে যাওয়ায় আগেভাগে বাড়ি যেতে পারছি। কাউন্টারে এসে টিকিট কেটেছি। টিকিট পেতে খুব বেশি ঝামেলায় পড়তে হয়নি।

রাজশাহীর যাত্রী ইমরান বলেন, অগ্রিম টিকিট কাটিনি। কাউন্টারে এসে টিকিট কেটেছি। এসেই টিকিট পেয়েছি। টিকিট পেতে কোনো ঝামেলায় পড়তে হয়নি। সাড়ে ১০টার সময় গাড়ি। আশাকরি ভালোভাবে ভোগান্তি ছাড়া বাড়িতে পৌঁছাতে পারবো।

এদিকে, ঈদুল ফিতরের পর ঈদুল আজহা মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এ উৎসবে মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তাদের প্রিয় বস্তু অর্থাৎ পশু কোরবানি করে থাকেন। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে জিলহজ মাস গণনা শুরু হয়েছে। সেই হিসেবে আগামী ২৮ মে (১০ জিলহজ) দেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

ঈদ ঘিরে ২৬ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত আগে থেকেই ছুটি নির্ধারিত ছিল। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নির্বাহী আদেশে ২৫ মে-ও ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। সেই হিসাবে আগামী ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাতদিন ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ চাকরিজীবীরা।

বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম

বিশ্ববাজারে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম

 



যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের আলোচনায় অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সন্দেহ বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়েছে।

বিশেষ করে তেহরানের ইউরেনিয়াম মজুত এবং হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ ইস্যুতে দুই দেশ এখনো অচলাবস্থায় থাকায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (২২ মে) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৩ শতাংশ বা ২ দশমিক ৩৮ ডলার বেড়ে দাঁড়ায় ১০৪ দশমিক ৯৬ ডলারে।

অন্যদিকে, মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বা ১ দশমিক ৭৩ ডলার বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ০৮ ডলারে পৌঁছেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছিল, যা প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থান ছিল।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো যাবে না। বিষয়টি জানিয়েছেন ইরানের দুইটি সূত্র। এতে শান্তি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দাবির বিপরীতে তেহরানের অবস্থান আরও কঠোর হলো।

এই নির্দেশনা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আরও হতাশ করতে পারে এবং ইরান যুদ্ধ অবসানের আলোচনা জটিল করে তুলতে পারে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প ইসরায়েলকে আশ্বাস দিয়েছেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইরানি ইউরেনিয়ামের মজুত দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে এবং যেকোনো শান্তি চুক্তিতে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করে আসছে। তারা বলছে, ইরান ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করেছে, যা বেসামরিক ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি এবং অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি। তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা