আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আগামীকাল সোমবার থেকে ঈদের ছুটি শুরু হওয়ায় আজ রোববার শেষ কর্মদিবসে অনেকেই বাড়ির পথে রওয়ানা হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রোববার (২৪ মে) সকাল থেকেই সদরঘাট এলাকায় যাত্রী ও স্বজনদের উপস্থিতি বাড়তে দেখা গেছে। কেউ আগেভাগে এসে লঞ্চের কেবিন ও সিট বুকিং করছেন, আবার কেউ ভিড় এড়াতে একদিন আগে থেকেই যাত্রার পরিকল্পনা করছেন।
ভোলাগামী যাত্রী শারমিন আক্তার বলেন, ছোট বাচ্চা নিয়ে ভিড়ে যাতায়াত করা কষ্টকর। তাই আজ অফিস থেকে একটু আগে বের হয়ে টিকিট নিশ্চিত করতে এসেছি।
এখন যাত্রীর চাপ কেমন তা নিয়ে কথা হয় মানামী লঞ্চের পরিচালক মো. জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, এখনো যাত্রীর চাপ সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে আজ রাত থেকে এবং আগামীকাল সকাল থেকে চাপ অনেক বেড়ে যাবে বলে আমরা ধারণা করছি। সে অনুযায়ী লঞ্চের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও যাত্রীসেবার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিটি কেবিন ও ডেক পরিষ্কার রাখা, লাইফ জ্যাকেট প্রস্তুত রাখা এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করার বিষয়ে আমাদের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। যাত্রীরা যেন স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদের মূল যাত্রীচাপ শুরু হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। ২৪ ঘণ্টা সমন্বিতভাবে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
এবার ঈদযাত্রায় নদীপথে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ যাত্রী চলাচল করতে পারেন। এ চাপ সামাল দিতে প্রায় ১৭৫টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিয়মিত সার্ভিসের পাশাপাশি অতিরিক্ত লঞ্চও চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সদরঘাটের পাশাপাশি বছিলা ও কাঞ্চন ব্রিজ এলাকা থেকেও বিশেষ সার্ভিস পরিচালনা করা হবে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটের নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আজ সন্ধ্যা থেকেই যাত্রীচাপ বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এজন্য ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচল বন্ধ, লাইফ জ্যাকেট ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পরীক্ষা এবং পন্টুন এলাকায় বাড়তি মনিটরিং চালানো হচ্ছে।
এছাড়া, যাত্রীসেবায় ফ্রি কুলি, ট্রলি ও হুইলচেয়ার সুবিধাও রাখা হয়েছে। কুলিদের হয়রানি বন্ধে ২০০ জন স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
পটুয়াখালীগামী যাত্রী আব্দুল কাদের বলেন, প্রতিবছর শেষ মুহূর্তে খুব চাপ থাকে। এবার একদিন আগে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেন ঝামেলা কম হয়। সেবা অনেক বেড়েছে।



0 $type={blogger}: